สล็อต หวยออนไลน์ หวยออนไลน์ สล็อต สล็อตเว็บตรง สล็อต สล็อต สล็อต หวยออนไลน์ สล็อต สล็อต หวยออนไลน์ หวยออนไลน์ หวยออนไลน์ หวยออนไลน์
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বাড়তি সামরিক তৎপরতা ও বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে কৌশলগত বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বাড়তি সামরিক তৎপরতা ও বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে কৌশলগত বিশ্লেষণ

প্রকাশকাল: নভেম্বর ৯, ২০২৫
*No Image

সম্প্রতি বাংলাদেশের সীমান্তের সন্নিকটে, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ সংলগ্ন অঞ্চলে ভারত তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। সেগুলো হলোঃ আসামের ধুবড়ির নিকটস্থ বামুনি, বিহারের কিষাণগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া। একই সাথে ওই অঞ্চলে নিয়মিত সামরিক মহড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সামরিক তৎপরতাগুলি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা জরুরি।

ভারতীয় সামরিক কর্তৃপক্ষ যদিও এই পদক্ষেপগুলির মূল লক্ষ্য তাদের পূর্বাঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বলে ব্যাখ্যা করছে।তাদের মতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারণে করিডোরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। দ্রুত সেনা মোতায়েন, লজিস্টিকস সহায়তা এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোই নতুন ঘাঁটি স্থাপনের উদ্দেশ্য। তবুও বাংলাদেশের জন্য এটি নিছক রুটিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা কঠিন।

তবে, বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে, সীমান্তের এত কাছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মহড়া স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগত উদ্বেগের জন্ম দেয়। নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলো বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের খুবই কাছাকাছি হওয়ায়, যেকোনো সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, চোপড়ার ঘাঁটিটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি কেবল ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন চীন-ভারত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। এই সামরিকীকরণ বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য। ভারত যদি এই সামরিক তৎপরতার বিষয়ে ঢাকাকে যথাযথভাবে অবহিত না করে, তবে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কূটনৈতিক সতর্কতা অবলম্বন করা। দ্রুততম সময়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতের কাছে তাদের সামরিক তৎপরতার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মাত্রা সম্পর্কে স্বচ্ছতা চাওয়া এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা উচিত। পাশাপাশি, নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও নজরদারি বাড়ানো, এবং কঠোরভাবে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা কৌশলগতভাবে জরুরি।বিশেষ করে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সব সময় হাই এলার্ট ও প্রস্তুতি রাখতে হবে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য এবং প্রয়োজনে উক্ত অঞ্চলে নিজেদের সামরিক ঘাটি ও শক্তিমত্তাও বৃদ্ধি করতে হবে।

ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতি সরাসরি আক্রমণের হুমকি না হলেও, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে, তাই জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

নিউজ ক্যাটাগরি:
এই সংবাদটি শেয়ার করুন: